আজিজুর-জামিলদের দুর্ভোগের অবসান হবে আজ

 ছাত্রলীগের আন্ডারে হলে থাকি। বড় ভাইদের নির্দেশে মারামারিসহ যেকোনো প্রোগ্রামেই অংশ নিতে হয়। কেউ মারামারিতে না গেলে পরে গেস্টরুমে গালিগালাজ করা হয় ও শাস্তি পেতে হয়।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক আবাসিক ছাত্র


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১৩টি আবাসিক হল মূলত ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। ছাত্রলীগই সেখানে ‘আসল প্রশাসন’। এসব হলে থাকা শিক্ষার্থীদের (বিশেষ করে কনিষ্ঠ শিক্ষার্থী) বাধ্যতামূলকভাবে বিভিন্ন সংঘাতের ঘটনায় অংশ নিতে হচ্ছে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক আবাসিক ছাত্র 



প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের আন্ডারে হলে থাকি। বড় ভাইদের নির্দেশে মারামারিসহ যেকোনো প্রোগ্রামেই অংশ নিতে হয়। কেউ মারামারিতে না গেলে পরে গেস্টরুমে গালিগালাজ করা হয় ও শাস্তি পেতে হয়।’ রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা মোসা. মোবাশ্বেরা আক্তার (৩৭) স্বামী ও দুই ছেলের জন্মনিবন্ধনের আবেদন ফরম জমা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এ তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। এখন তো সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা নেই। তাহলে তিনি কেন জন্মসনদ করছেন, জানতে চাইলে মোবাশ্বেরা প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেরা মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসা থেকে বলা হয়েছে, মা-বাবার জন্মসনদ পরে লাগবে। তাই একসঙ্গে জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন তাঁরা। জন্মসনদ পরে কী কাজে লাগবে, তা জানাতে পারেননি মোবাশ্বেরা। তবে এর উত্তর কিছুটা পাওয়া গেছে অঞ্চল ৫-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এস এম ওয়াসিমুল ইসলামের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অনলাইনে মা-বাবার তথ্যের সঙ্গে সন্তানের সব তথ্য যুক্ত করার জন্য ম্যাপিং করতে হয়। ম্যাপিং করতে হলে মা-বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর থাকতে হয়। এর সুবিধা হচ্ছে, প্রয়োজন হলে একসঙ্গে মা-বাবা ও সন্তানের তথ্য সংশোধন করা যায়। এর মানে হচ্ছে, যে শিশুদের মা-বাবার জন্মসনদ নেই, অনলাইনে সেই শিশুদের মা-বাবার সঙ্গে ই-বন্ডিং অর্থাৎ ইলেকট্রনিক সেতুবন্ধ রচিত হবে না। ফলে সন্তানের জন্মসনদ করতে গিয়ে নিজেদের জন্মসনদ লাগছে না বলে মা-বাবার স্বস্তি পাওয়ার বিষয়টি আদতে কতটা ‘স্বস্তিদায়ক’ হলো, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ৩ অক্টোবর অঞ্চল-৫-এ লামিয়া আক্তার হুমায়রা নামে ছয় বছরের এক শিশুর জন্মনিবন্ধনের আবেদন জমা হয়। শিশুটির বাবা মোফাজ্জল হোসেন রুবেল এবং মা শারমিন আক্তার ছালমার জন্মনিবন্ধন না থাকায় ফরমের নির্ধারিত ঘর ফাঁকা রাখা হয়। ওই দিন অঞ্চল-৫-এ মোট ৪৯৯টি জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনসংক্রান্ত আবেদন জমা পড়ে।  এর মধ্যে ম্যাপিং ছিল ৬টি, সংশোধন ২৬টি এবং মৃত্যুনিবন্ধন সনদের আবেদন ৩টি। বাকিগুলো জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন। বছরের এই প্রান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির কারণে আবেদন বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। অন্য সময় দিনে গড়ে ২০০টির মতো আবেদন জমা হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post